• ঢাকা
  • শনিবার:২০২৪:মার্চ || ১৯:৩৭:৫৫
প্রকাশের সময় :
অক্টোবর ২৪, ২০২২,
২:১৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
অক্টোবর ২৪, ২০২২,
২:১৭ অপরাহ্ন

৫২ বার দেখা হয়েছে ।

হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

আন্দামান সাগর হয়ে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৪টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে কনকনে ঠাণ্ডায় নিম্নাঞ্চলের অসহায় মানুষেরা আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সকাল ১০টার দিকে জরুরি সভা করেছে।

হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে নিঝুম দ্বীপে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। সোমবার সকাল থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বান্ধাখালী, মোল্লা গ্রাম, মুন্সি গ্রাম ও মদিনা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কেন্দ্রীয় ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্য ও জেলা ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। রোববার ইউনিট কার্যালয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ সভা করা হয়েছে। ইউনিট ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির প্রশিক্ষিত ভলেন্টিয়ার ইতিমধ্যে উপকূল অঞ্চলে মাইকিং শুরু করেছেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম হোসেন তোলপাড় নিউজকে জানান, আবহাওয়া অধিদফতর থেকে ৭ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ-চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনার আলোকে মাইকিংয়ের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় হাতিয়াতে ২৪২টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৩ হাজার ৫৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোর ৬টা পর্যন্ত নোয়াখালীতে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে ৮৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ৭-৮ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশংকা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান তোলপাড় নিউজকে জানান, নোয়াখালীর উপকূলীয় হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ৩ লাখ লোক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৪০১টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম ১০১টি ও ২৫০ মেট্রিক চন চাল, নগদ ৫ লাখ টাকা, বিস্কুট ৭০০ কার্টুন মজুত রাখা হয়েছে।