• ঢাকা
  • শুক্রবার:২০২৩:ডিসেম্বর || ১৮:২৫:৫২
প্রকাশের সময় :
মে ১৩, ২০২৩,
৪:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
মে ১৩, ২০২৩,
৪:৩১ অপরাহ্ন

২৫৪ বার দেখা হয়েছে ।

রূপগঞ্জে সাজানো মামলায় নিরীহদের আসামি মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ

রূপগঞ্জে সাজানো মামলায় নিরীহদের আসামি মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ

রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় এলাকায় নিরীহদের নামে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে। ওই মামলা প্রত্যাহার দাবিতে ১৩ মে শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জ-ইছাপুরা সড়কের জলসিঁড়ি চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০ টায় মাদকসহ আটক হয় উপজেলার বাগবেড় এলাকার মৃত সাইজদ্দিন সাজুর ছেলে মো. কাইয়ুম। পরে ওই রাতেই পুলিশ তাকে উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেন। এ সময় কাইয়ুমের সাথে উপস্থিত ছিলেন একই এলাকার মিষ্টার হক ভুঁইয়া ও মো. ফারুক। তারা এলাকায় প্রচারণা করেন, ওই রাতেই কাইয়ুমকে পুলিশ উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেন। পরে রাতে কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে আসামিদের চিনতে পারেনি বলে উল্লেখ্য করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনার এক মাস পর রূপগঞ্জ থানার এসআই মতিউরের সহায়তায় মো. কাইয়ুম তার স্ত্রীর ভাই মোজাম্মেলসহ বাগবেড় এলাকার নিরীহ দুলাল ও সোহেলকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। গত ৯ মে মামলা দায়ের করে রাতেই আসামি সোহেল ও দুলালকে রূপগঞ্জ থানার এসআই মতিউর রহমান গ্রেপ্তার করে। পরদিন আসামিদের ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাদের রিমান্ড না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাইয়ুম তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তির জন্য একের পর এক মামলা দিয়ে তার স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল হোসেনকে হয়রানি করে আসছেন। মোজাম্মেলকে তার মা-বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নিতে এলে তাকে ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারেও রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পারিবারিক কোন্দলের শিকার হয়ে বাগবেড় এলাকার দুলাল ও সোহেল বলিরপাঠা বনে যান।
সাজানো মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল ও দুলালকে জামিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সভাপতি ফেরদৌস হাসান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মোহসীন শুনানী করেন। তখন পুলিশের ৭দিনের রিমান্ড বাতিল করে আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণ করে। এলাকায় মামলাবাজ হিসেবে কাইয়ুমের পরিচিতি রয়েছে। এসব ঘটনার পর মামলা প্রত্যাহার দাবিতে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এলাকাবাসী।
অপরদিকে মাদকাসক্ত কাইয়ুম বাগবেড় এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে মাহমুদাকে বাদি করে মোজাম্মেলের নামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সত্যতা না পেয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই হামিদুর রহমান আসামি মোজাম্মেলকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এছাড়াও কাইয়ুম ও মোজাম্মেলের মধ্যে একাধিক চাঁদাবাজি, মারামারি, অপহরণের মামলা চলমান রয়েছে। তাদের এই বিরোধের জেরে বাগবেড় এলাকার নিরীহ দুলাল ও সোহেল আজ জেলহাজতে থাকতে হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে রূপগঞ্জের বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকায় শত শত নারী পুরুষ সাজানো মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন- জাইদুল ইসলাম, আশাদ, রুবেল, ফিরো, কামিজউদ্দিন, শুনু, আব্দুল আলী, শুক্কুর আলী, আল আমিন, শামীম, মোতালিব, দেলোয়ার হোসেন, রোকেয়া বেগম, আতরী, নুরজাহান, ময়না, রতœা, আছমা, রিয়া, নুপুর, শাহীন, সুফিয়া প্রমুখ। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিলটি জলসিঁড়ি থেকে বাগবেড় বাজার ও দক্ষিণবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রূপগঞ্জ থানার এসআই মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রূপগঞ্জ থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, এক মাস আগে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হলে সোহেল ও দুলাল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।