• ঢাকা
  • শুক্রবার:২০২৪:Jun || ২২:২৩:৫৯
প্রকাশের সময় :
অগাস্ট ২৫, ২০২৩,
৫:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
অগাস্ট ২৫, ২০২৩,
৫:৪৯ অপরাহ্ন

৪৪৩ বার দেখা হয়েছে ।

রূপগঞ্জে পিবিআইয়ের এসপি মিজানের ক্ষমতার প্রভাবে নিরীহদের নামে মামলা

রূপগঞ্জে পিবিআইয়ের এসপি মিজানের ক্ষমতার প্রভাবে নিরীহদের নামে মামলা

নিজেকে এসপি পরিচয় দিয়ে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নিরীহ লোকজনের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির প্রকৃত মালিকদের নামে মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে বলেও ভুক্তভোগিরা দাবি করেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ভগবান নগর এলাকার আবুল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমান। তিনি পিবিআই এ ঢাকার ধানমন্ডী শাখার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। পূর্বাচল উপশহর সংলগ্ন রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় এলাকায় ১৫-২০ বছর ধরে জাল-জালিয়াতি ও জমির ভুয়া মালিক সাজিয়ে দলিল সম্পাদন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে হয়রানিসহ গ্রেপ্তার করে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। এতেও কাজ না হলে নিজের প্রভাব খাঁটিয়ে থানায় মামলা দিয়ে জমির মালিকদের হয়রানি করে থাকে।
রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গত ২৩ আগষ্ট মিজানুর রহমান বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার সোনাবিবি এলাকার মৃত ওমেষ চন্দ্র দাসের ছেলে বাদল চন্দ্র মনি ঋষি দাস (৬৪), রূপগঞ্জের বাগবেড় গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে মো. রুহুল আমিন (৪১), ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে জহুরুল ইসলাম পলাশ (৩৩), বাড়িয়াছনি এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে ইমরান হাসান (৪৩), পিতলগঞ্জের বিল্লাল হোসেনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩০), গোলাকান্দাইল এলাকার আরজু মিয়ার মেয়ে বিউটি বেগম (৪২), ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি খাগাটিপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের মেয়ে মাসুদা খাতুন (৫৩), নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকার বিষুর ছেলে বিকাশ (৪০), সোনারগাঁয়ের বাগমেলা গ্রামের জ্ঞান চন্দ্রের ছেলে গৌরাঙ্গ (৪২), নিতাইগঞ্জের গণেশের ছেলে শিপন (৩৫), রূপগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও দক্ষিণ নবগ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন (৫৫)সহ অজ্ঞাত আরো ১০জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়েছে, মিজানুর রহমানের ৪০ শতাংশ জমি আসামিরা ভুয়া দলিল সম্পাদন করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছেন। অথচ মিজানুর রহমান নিজেই ভুয়া মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে ভোগদখলের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া এসপি মিজানুর রহমান জমি কিনেন জালাল উদ্দিন ও হেলালউদ্দিনের কাছ থেকে। আর মামলার আসামিরা জমি ক্রয় করেছেন বাদল চন্দ্র মনি ঋষি দাসের কাছ থেকে। এ ব্যাপারে বাদল চন্দ্র মনি ঋষি দাস রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিসকেস মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ৮৫০/২৩। এতে জমি হারানোর ভয়ে এসপি মিজানুর রহমান বাদি হয়ে জমির প্রকৃত মালিক বাদলসহ জমি ক্রেতাদের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দেয়ার পর মুঠোফোনে হুমকিসহ গ্রেপ্তার করে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী গতকাল শুক্রবার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১৫০ ফিট সড়কে শত শত লোকজন জড়ো হয়ে এসপি মিজানের অত্যাচার থেকে মুক্তির দাবি জানান। সেই সাথে তার অবৈধ অর্জিত হাজার কোটি টাকার রহস্য উদ্ঘাটনেরও দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
জমির গ্রহিতা মো. রুহুল আমিন জানান, আমরা জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি। এসপি মিজানের ক্রয়কৃত জমির মালিক জালাল উদ্দিন ও হেলালউদ্দিন। আর আমাদের দাতার নাম বাদল চন্দ্র মনি ঋষি দাস। তিনি জমির আরএস রেকর্ডিয় মালিক মৃত ওমেষ চন্দ্রের ছেলে। এসপি মিজানের সাথে বাদল গংদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
পিবিআইয়ের এসপি মিজান রূপগঞ্জ উপজেলার নিরীহ লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বেদখল সম্পত্তি কিনে এসপির প্রভাব খাঁটিয়ে দখল করে। পরে তা কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ওই এসপি মিজানের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতের একাধিক মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত এসসি মিজানুর রহমান জানান, সব অভিযোগ সঠিক নয়। তাছাড়া আমার কেনা জমির কাগজে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে সংশোধন করার চেষ্টা চলছে।