• ঢাকা
  • সোমবার:২০২৪:এপ্রিল || ১১:১১:৫৭
প্রকাশের সময় :
জানুয়ারী ২৩, ২০২৩,
১০:১৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
জানুয়ারী ২৩, ২০২৩,
১০:১৮ পূর্বাহ্ন

৩৩২ বার দেখা হয়েছে ।

রূপগঞ্জের আতঙ্ক আমাতুল্লাহ বাহিনী ॥ অবাদে মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি

রূপগঞ্জের আতঙ্ক আমাতুল্লাহ বাহিনী ॥ অবাদে মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাদিরারটেক এলাকার আতঙ্ক আমাতুল্লাহ ও তার ছেলে সজল মিয়া। তাদের সেল্টারে এলাকায় অবাদে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে। পিতা-পুত্র দুজনেই ইয়াবায় আসক্ত। নিজের জমিতে নির্মাণ কাজ করলেও আমাতুল্লাহ বাহিনীকে দিতে হয় চাঁদা। অন্যথায় হামলা চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এ বাহিনী। এ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদ রানাও। বাড়িয়ারটেক এলাকায় তিনি বাড়ি করতে গেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই এলাকার ছাদেক মিয়ার ছেলে আমাতুল্লাহ, তার ছেলে সজল মিয়াসহ ৭-৮ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী। আমাতুল্লাহসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি, হামলা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ হাফ ডজন মামলা রয়েছে। পূর্বাচলের আতংক এখন আমাতুল্লাহ বাহিনী।
সম্প্রতি রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মাসুদ রানা নিজের জমিতে বাড়ি করতে গেলে ওই এলাকার ছাদেক মিয়ার ছেলে ইয়াবা আসক্ত আমাতুল্লাহ, ছেলে সজল মিয়াসহ ৮-১০ জনের একটি চক্র ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধ করে লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। কাদিরারটেক ও বাড়িয়ারটেক এলাকায় জায়গা কিনলে ও বাড়ি বানালে আমাতুল্লাহ বাহিনীকে দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা।
কাদিরারটেক এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, পূর্বাচলে বালুর ব্যবসার জন্য ড্রেজার বসানো হলে আমাতুল্লাহ, সজন মিয়াসহ ৭-৮জন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা না দেয়ায় তার ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। পরে রুবেলের বাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ওই রাতেই ঘরে অস্ত্র রেখে হয়রানির চেষ্টা করে। এর আগে আমাতুল্লাহ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন।
ওই এলাকার জিয়াসমিন বেগম বলেন, মামলাবাজ ইয়াবা আসক্ত আমাতুল্লাহ নিজে শনাক্ত সাক্ষী হয়ে আমাকে ৩ শতাংশ জমি কিনে দেন। এখন ওই জমিতে কাজ করতে গিয়ে সে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। গত ৪ বছর ধরে ওই জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না আমাতুল্লাহ ও তার ছেলে সজল মিয়া।
এলাকাবাসী জানান, আমাতুল্লাহ তার বন্ধু মোন্তাজউদ্দিনকে পানিতে ফেলে হত্যা করে। একই পদ্ধতিতে স্থাণীয় বাসিন্দা জামান মিয়াকেও হত্যা করে। পরে জমি বিনিময় করে ঘটনা মিমাংসা করে নেয়। আমাতুল্লাহ ও তার ছেলে সজল ইয়াবা আসক্ত। তাদের সেল্টারে এলাকায় প্রকাশে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই হামলাসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করে। তার নামে-বেনামে রয়েছে অবৈধ সম্পদ। ভারত থেকে দাতা সাজিয়ে হিন্দুদের জমি আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আমাতুল্লাহ বলেন, জমি নিয়ে ঝামেলা থাকলে বাধা দেয়া অন্যায় নয়। আর আগে যেসব অভিযোগ ছিল সেসব স্থাণীয়ভাবে মিমাংসা হয়েছে। মামলা আদালতে মোকাবেলা করছি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, আমাতুল্লাহ ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।