• ঢাকা
  • শনিবার:২০২৪:মার্চ || ২০:৩৭:২০
প্রকাশের সময় :
অক্টোবর ২৭, ২০২২,
৭:১৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
অক্টোবর ২৭, ২০২২,
৭:১৬ পূর্বাহ্ন

৫২ বার দেখা হয়েছে ।

রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সর্ববৃহৎ জনসমাগমের প্রস্তুতি

রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সর্ববৃহৎ জনসমাগমের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশের পর বিএনপির নজরে এবার উত্তরের জেলা রংপুর। বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে এখানকার বিএনপির রাজনীতি। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে প্রতিদিন ধারাবাহিক সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তৃণমূলেও।

আগামী ২৯ অক্টোবর (শনিবার) রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভার মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এ কারণে আয়োজকদের ধারণা, রংপুরের বিভাগীয় গণসমাবেশে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটবে। এটি হবে বিভাগীয় পর্যায়ে বিএনপির চতুর্থ গণসমাবেশ।

এদিকে গণসমাবেশের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। সঙ্গে সমাবেশ সফল করতে নানা ছক কষছেন বিএনপির নেতারাও। গত সোমবার (২৪ অক্টোবর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গণসমাবেশ করার অনুমতি পাওয়ার পর শুরু হয়েছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মাঠ পরিদর্শনসহ অন্যান্য কাজগুলো দেখভাল করছেন। সমাবেশে স্মরণকালের সর্বাধিক জনসমাগম ঘটানোর প্রত্যাশা নেতাদের।

এছাড়াও গণসমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্যরা দিন-রাত কাজ করছেন। রংপুর নগরীসহ জেলা এবং বিভাগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাবেশকে ঘিরে প্রস্তুতিতে এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো প্রকার পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি। তবে পূর্বনির্ধারিত রংপুর জিলা স্কুল মাঠে যাতে সমাবেশ করতে না পারে এজন্য সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে ২৭ অক্টোবর বিভাগীয় ছাত্রসমাবেশ ডেকে পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে বলে দাবি অনেকের। আবার অনেকেই আশঙ্কা করছেন সমাবেশের দুই-এক দিন আগ থেকে হয়তো পুলিশি হয়রানির শিকার হতে পারেন নেতা-কর্মীরা।

এদিকে যদি কোনো কারণে নির্ধারিত স্থানে সমাবেশের অনুমতি প্রশাসন বাতিল করে, তাহলে যেকোনো মূল্যে বিকল্প স্থানে হলেও গণসমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি রয়েছে দলটির নেতাদের। অন্য তিন বিভাগের মতো যদি রংপুরেও বিএনপি সমাবেশ করতে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে এখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সচতেন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে গুলিতে দলের নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদসহ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ অক্টোবর শনিবার রংপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা গণসমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে গণসমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে রংপুর মহানগরীসহ বিভাগের ৯ সাংগঠনিক জেলায় এবং বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তারা সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে নানা প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা। বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ওলামা দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনের নেতারা দিনরাত কাজ করছেন। হাট-বাজার, শপিং মলসহ বিভিন্নস্থানে বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। লাগানো হয়েছে কয়েক ধরনের পোস্টার। চলছে ফেস্টুন-ব্যানার সাঁটানোর কাজ। সব মিলিয়ে বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে চালানো হচ্ছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। সমাবেশে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন তারা। এটি রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ হলেও এখানে রংপুর বিভাগের বাহিরে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা শহর থেকেও নেতা-কর্মীদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন জানান, বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে ৬ অক্টোবর থেকে রংপুর বিভাগের সব জেলা, উপজেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি জেলায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রস্তুতি সভা করেছেন, উপজেলা পর্যায়ে জেলার নেতৃবৃন্দ প্রস্তুতি সভা করেছেন। এভাবেই অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রস্তুতি সভা করেছেন। সবমিলিয়ে আমরা প্রস্তুত।

গণসমাবেশে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সরকার বাধা দিয়েও গণসমাবেশে গণজোয়ার ঠেকাতে পারেনি। বরং বাধাকে ডিঙিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে জনগণ। আওয়ামী লীগ যত বাধা দেবে, ততই মানুষের মাঝে জেদ কাজ করবে এবং তারা সমাবেশে যে কোনো উপায়ে উপস্থিত হবে। কত লাখ লোক সমাগম হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে সংখ্যা উল্লেখ না করলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক লোক সমাগমের কথা বলেন তিনি।

এদিকে বুধবার দুপুরে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় আমরা গণসমাবেশ করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে সরকারের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু রংপুর দেশের বিচ্ছিন্ন কোনো জেলা নয়, তাই আমরা আশঙ্কা করছি এখানেও সরকারের পক্ষ থেকে বাধা আসতে পারে। আমরা জিলা স্কুল মাঠ চেয়েছিলাম, সেখানে অনুমতি না দেয়াটাই সরকারের বাধার একটা অংশ।

আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, বাধার মুখে খুলনার সমাবেশে মানুষ কিন্তু নদী সাঁতরে এসেছিল। আশা করছি রংপুর অঞ্চলের মানুষজন হেঁটে, সাইকেলে, বাইসাইকেলে, ভ্যানে করে হলেও সমাবেশে এসে যোগ দেবেন। আমার ধারণা কালেক্টরেট মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে। মাঠ ছাপিয়ে পুরো শহরের রাস্তাঘাট বিএনপির সমাবেশে আসা মানুষের দখলে থাকবে। কারণ আমরা গণমানুষের স্বার্থে এই সমাবেশ করছি। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এখন সাজসাজ অবস্থা বিরাজ করছে। সমাবেশের আগের দিন থেকেই নেতা-কর্মীরা রংপুরমুখী হবেন। শনিবার সকাল ১০টার আগেই মাঠ ভরে যাবে। কোথাও তিল ধারণের জায়গা থাকবে না।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকল স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। কেউ কোনো বেআইনি কাজ করলে বা শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন করলে পুলিশ তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত। তাতে কোন ছাড় দেয়া হবে না।