• ঢাকা
  • শনিবার:২০২৪:মার্চ || ২০:৫৫:৫৯
প্রকাশের সময় :
মে ২০, ২০২২,
৭:০০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
মে ২০, ২০২২,
৭:০০ অপরাহ্ন

৪৮ বার দেখা হয়েছে ।

‘মুজিব’ ট্রেলার নিয়ে বিতর্কের ঝড়

‘মুজিব’ ট্রেলার নিয়ে বিতর্কের ঝড়

বিনোদন প্রতিবেদক
বঙ্গবন্ধু চরিত্রে আরিফিন শুভর কণ্ঠ, ভিএফএক্স, ইতিহাসের সঙ্গে ট্রেলারের দৃশ্য না মেলার মতো অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে দাবি করে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক সিনেমা মুজিব- দ্য মেকিং অফ আ ন্যাশন-এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ট্রেলারটি প্রকাশেরর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

বাঙালির ভীষণ আবেগ-ভালোবাসার মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পর্দায় চরিত্রের মাধ্যমে দেখে হতাশ হয়েছেন সিনেমাসংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকরা। বঙ্গবন্ধু চরিত্রে আরিফিন শুভর কণ্ঠ, ভিএফএক্স, ইতিহাসের সঙ্গে ট্রেলারের দৃশ্য না মেলার মতো অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে দাবি করে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ।

দেশের বরেণ্য গীতিকার-সুরকার প্রিন্স মাহমুদ স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘শুভর ভয়েস আবার ডাব করেন’ (সংক্ষিপ্ত)। স্ট্যাটাসটি অবশ্য এখন আর নেই তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে।

নির্মাতা গাজী শুভ্র ‘সহমত’ জানিয়েছেন প্রিন্স মাহমুদের বক্তব্যকে।

‘shame…. বনে গেলাম’ লিখেছেন সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

সাংবাদিক, নাট্যকার পলাশ মাহবুব লিখেছেন, ‘Trailer is not satisfactory. (ট্রেলার সন্তোষজনক নয়)’ (সংক্ষিপ্ত)

সাংবাদিক, নির্মাতা, প্রযোজক জসিম আহমেদ লিখেছেন, ‘১২০ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করে এই ভিএফএক্স, এই গ্রিন স্ক্রিন লাইটিং? টিচারের কাম দেখে ছাত্রদের লজ্জা লাগতেছে।’

চলচ্চিত্রকার, চলচ্চিত্র সমালোচক বেলায়াত হোসেন মামুন লেখেন, ‘কি দেখলাম এটা! না দেখলেই ভালো হতো…’ (সংক্ষিপ্ত)

পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খান লিখেছেন, ‘আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ দিনটা শুরু করেছি… (মুজিব দ্যা ম্যাকিং অব এ নেশন)।’

চলচ্চিত্র পরিচালক রাশিদ পলাশ লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা সিনেমা বানাবো আবেগ দিয়ে, কলিজা দিয়ে। আপনারা বানাবেন টাকা দিয়ে, এটায় স্বাভাবিক শ্যাম বেনেগাল শাহেব। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এদেশে সিনেমা হচ্ছে, সামনে আরও হবে, আমরাই বানাবো। সত্যিকারের আবেগ দিয়েই বানাবো। বেঁচে থাকলে দেইখেন।’

সংগীতশিল্পী ফয়সাল রোদ্দী লিখেছেন, ‘মুজিব-দ্যা মেকিং অফ এ নেশন এর ট্রেইলার দেখে হতাশ হয়েছি কিন্তু অবাক হইনি।’ (সংক্ষিপ্ত)

নির্মাতা কৌশিক শংকর দাস লিখেছেন, ‘আচ্ছা পুরো সিনেমাটা রিশুট করা যায় না?? যদিও আমার নিজের কোন প্রত্যাশা ছিল না, তাই হতাশ বা খুশী কোনটাই হইনি। কিন্তু সবার প্রতিক্রিয়া দেখে এটা ছাড়া তো আর কোন উপায় দেখছি না!!’

নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাস লিখেছেন, ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা, এই জনতা।’

সাংবাদিক মাহমুদ মানজুর লিখেছেন, ‘ট্রেলারে আশা পূর্ণ হলো না। তবে মুভিতে হবে- সেই বিশ্বাস রাখি।’ (সংক্ষিপ্ত)

মীর শামসুল আলম ট্রেলারের কিছু দৃশ্য ও ইতিহাসের কথা তুলে ধরে লিখেছেন-

“শত কোটি টাকায় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের বলৎকার। ‘বলৎকার’ শব্দটি ব্যবহারের জন্য আমি দুঃখিত নই।

১) প্রথম দৃশ্যটি ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ছাত্ররা ‘বাংলার স্বপক্ষে প্লাকার্ড নিয়ে মিছিলে বের হচ্ছে- পুলিশ মুখোমুখি গুলি করছে।

বাজী ধরে বলতে চাই- ঘটনা এই ধরনের নয়

ক) ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা প্লাকার্ড বহন করেনি।

খ) প্রথম মিছিল বের হবার অন্তত ৪ ঘণ্টা পর গুলি করা হয়েছে- সেটা মিছিলে নয়- রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে থেকে ছাত্র জনতার সমাবেশে- গুলি চালানোর ঘণ্টা তিনেক আগেই মিছিল বন্ধ ছিল।

২) দ্বিতীয় দৃশ্যটি ঐতিহাসিক ৩২ নাম্বারের দোতালা বাড়িতে প্রবেশ করছে বালক শেখ কামাল, জামাল ও কিশোরী শেখ হাসিনা।

‘মুজিব’ ট্রেলার নিয়ে বিতর্কের ঝড়
ট্রেলার থেকে নেয়া মীর শামসুল আলমের পোস্ট করা ছবি।
ইতিহাস বলে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার প্লটে দুই কামরার একতালা বাড়িতে শেখ পরিবার প্রবেশ করেন- এরপর বেগম মুজিবের তৎপরতায় তিল তিল করে ধীরে ধীরে বাড়িটি দোতালায় পরিণত হয়।

৩) তৃতীয় ও চতুর্থ দৃশ্যটি ৭ মার্চের ভাষণের।

ভাষণের চারজন চিত্রগ্রাহককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম- একজন আমার আত্মীয়ও- কেউই বয়স্ক ছিলেন না- স্ট্যান্ডসহ ক্যামেরা মঞ্চেও ছিল না।

‘মুজিব’ ট্রেলার নিয়ে বিতর্কের ঝড়
ট্রেলার থেকে নেয়া মীর শামসুল আলমের পোস্ট করা ছবি।
১৯৭১ সালে কর্ডলেস মাইক্রোফোন? পুরো ছবিতে যে কি দেখবো?”

ট্রেলারটি দেখে ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ করেননি এমন দর্শকও আছেন, তবে সংখ্যায় খুবই কম।

অ্যাকটিভিস্ট ওমি রহমান পিয়াল তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যেই দেশে বঙ্গবন্ধুর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ নিষিদ্ধ ছিল, রাবার দিয়ে ঘইষা ঘইষা মুছার চেষ্টা হইছে তারে, সেই দেশে তারে নিয়া একটা বায়োপিক হইছে। ট্রেলার দেইখ্যা আমরা কইয়া দিলাম এইডা কিছু হয় নাই। মাত্র একটাকা পারিশ্রমিকে সিনেমার মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করলো যে, কইলাম তার মেকাপ খারাপ। সোজা বাংলায় শ্যাম বেনেগাল টাকা মাইরা একটা **প্রসব করছেন। রাতারাতি সিনেমাবোদ্ধা বইনা যাওয়া বাঙালী বলতেছে আমারে টেকা দিলে আরো ভালো জিনিস বানায়া দেখাইতাম, খালেদার দুই পদ্মাসেতুর মতো! বাঙালীর এই কনফিডেন্ট প্রলাপ বরাবরই আমারে মুগ্ধ করে। নিজে না পারি অন্যে করলে সেটা খারাপ বলায় আমাদের কখনও সমস্যা হয় নাই…’

(** এর জায়গায় অন্য শব্দ ছিল। যা সম্পাদকীয় মণ্ডলীর নীতিমালা অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য নয়)

সাংবাদিক, লেখক অপূর্ণ রুবেল লিখেছেন, ‘যাদের ট্রেলার ভালো লাগে নাই, তারা দয়া করে জ্ঞান না দিয়ে নিজেরা নিজেরা ট্রেলার বানায়া দেখেন। স্বাবলম্বী হোন।’

সাংবাদিক উদিসা ইসলাম লিখেছেন, ‘ট্রেইলার ঠিকাছে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু অভিনয় করলেও আপ্নেরা এসবই বলতেন। ভাই, শুভ কীভাবে বঙ্গবন্ধু হবে? শুভ বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করেছে। গল্পটা দেখেন, একটা সিনেমা হয়েছে কিনা আলোচনা করেন। হুবহু বঙ্গবন্ধুকে খুঁইজেন না।’

লেখক, সাংবাদিক মুনমুন শারমিন শামস লিখেছেন, ‘ট্রেলার আমার মন্দ লাগে নাই। আরেফিন শুভও যথাসাধ্য ভাল করেছেন বলেই মনে হচ্ছে।’

ফ্রান্সে বিশ্বখ্যাত কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৫তম আসরের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বায়োপিকের ট্রেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুববিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর।