• ঢাকা
  • সোমবার:২০২৪:এপ্রিল || ১১:৩৪:২৭
প্রকাশের সময় :
মে ২০, ২০২২,
১০:০৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
মে ২০, ২০২২,
১০:০৭ অপরাহ্ন

৪২৫ বার দেখা হয়েছে ।

মাশরাফি-তাসকিনের পরামর্শে দুঃসময় কাটানোর প্রেরণা পাচ্ছেন অভিষেক

মাশরাফি-তাসকিনের পরামর্শে দুঃসময় কাটানোর প্রেরণা পাচ্ছেন অভিষেক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

মাশরাফি বিন মুর্তজা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং ইউনিটের হাল ধরেছেন তাসকিন আহমেদ। তাতে ভাগ্যও যেন তারই আইডল মাশরাফির মতো বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। একের পর এক ইনজুরিতে মাঠের থেকে বাইরেই বেশি কাটাতে হচ্ছে ডানহাতি পেসারকে। মাশরাফি তো বেশ দূরে, এমনকি তাসকিনকে ছোঁয়ার মতো অবস্থান এখনো তৈরি করতে পারেননি অভিষেক দাস অরণ্য। কিন্তু ইনজুরি ভাগ্যে দুইজনকেই যেন পেছনে ফেলে দিচ্ছেন তিনি।

অভিষেকের নাম শুনে ভ্রু কুঁচকে যেতে পারে। অনেকেই স্মৃতির পাতা হাতড়াতে শুরু করেছেন। এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাতীয় দলের আশেপাশেও যে নেই, এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটে লিস্ট-এ ম্যাচই খেলেছেন একটি। প্রথম শ্রেণি আর টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতার ঝাঁপি একেবারে শূন্য। তবে অভিষেক নিজের পরিচয় ঠিকই তৈরি করে নিয়েছেন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বড় যে অর্জন, সেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য।

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও আগুনে বোলিংয়ে পুড়িয়েছেন প্রতিপক্ষকে। তুলে নেন ৩ উইকেট। এরপর দেশে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটের ওই একটিমাত্র ম্যাচ খেলেন ২০২০ সালের ১৫ মার্চ। এরপর ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে কেটে ২৬ মাস। আর ব্যাট-বল নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফেরা হয়নি অভিষেকের। পিঠের চোটে এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন তিনি।

সবশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগে গত ৪ মে ইংল্যান্ড যান অপারেশন করাতে। তবে সেখানকার ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন, ইনজেকশনের মাধ্যমেই ভালো হবে তার এই ব্যথা। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন অভিষেক। ইংল্যান্ড থেকে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দিয়ে আপাতত দুই সপ্তাহের বিশ্রামে আছেন।

ঢাকা পোস্টকে অভিষেক বলছিলেন, ‘আমি অপারেশনের জন্য ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম। ওখানকার ডাক্তারের সাথ পরামর্শের পর তিনি বললেন যে, অপারেশন লাগবে না। যেহেতু বিকল্প হিসেবে ইনজেকশন আছে, সেজন্য ইনজেকশন দেওয়াই ভালো। ওখান থেকে একটা ইনজেকশন দিয়ে এসেছি। এখন এটার জন্য আমাকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ইনজেকশনটা যদি কাজে আসে, সেক্ষেত্রে আমাকে আরেকবার টেস্ট করাতে হবে।’

ফেরার প্রক্রিয়া ঠিক কী হবে অভিষেকের? দেখতে দেখতে ২৬ মাস ক্রিকেটের বাইরে, কতদিনই বা লাগবে আর! সেটি এখনই নিশ্চিত করতে পারছেন না এই সম্ভাবনাময় তরুণ অলরাউন্ডার। তবে তার বিশ্বাস, চলতি বছরেই ফিরতে পারবেন মাঠে।

অভিষেক বলেন, ‘এখন তো আপাতত আমার ১৪ দিনের বিশ্রাম। এরপর দেবাশীষ স্যার (বিসিবির প্রধান চিকিৎসক) ইংল্যান্ডের ওই ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন। তারপর উনি যেইটা পরামর্শ দেবেন সেই অনুযায়ী…। পরামর্শ বলতে আরেকবার টেস্ট করতে হবে। তো এটা (পরবর্তী চিকিৎসা) যেখান থেকে ভালো হবে, সেখানেই করবে। আমার মনে হয়, এটা দেশের বাইরেই করা হবে।’

সঙ্গে যোগ করেন অভিষেক, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পারব। যেহেতু আমার অপারেশনটা লাগছে না, সেক্ষেত্রে খুব বেশিদিন তো আর লাগার কথা না। কারণ, সার্জারি লাগলে সেক্ষেত্রে ফেরার অনেক লম্বা একটা প্রসেস থাকে। আমি তো অনেকদিন কোন এক্টিভিটিসের মধ্যে ছিলাম না, এতটাই ব্যথা ছিল যে, কিছুই করতে পারছিলাম না। তো রিহ্যাব সেশনে যদি প্রপার গাইডলাইনের মধ্যে থাকতে পারি, আমার মনে হয় আমি খুব তাড়াতাড়ি কামব্যাক করব। সেটি এখনি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না ঠিক কত দিন সময় লাগবে।’

অভিষেক এই ফেরার যাত্রায় অনুপ্রেরণা হিসেবে পাশে পেয়েছেন মাশরাফি আর তাসকিনকে। এই দুই পেসারের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সঙ্গী ইনজুরি। তারা কিভাবে চোটমুক্ত হয়ে ফিরে আসেন, সেই পরামর্শ নিচ্ছেন অভিষেক। অভিষেক আর তাসকিনের চোটের ধরণ অনেকটা একইরকম। অভিষেক যখন ইংল্যান্ডে ছিলেন চিকিৎসার জন্য, তখন তাসকিনও গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। সেখানেও কথা হয়েছে দুইজনের।

অভিষেক বললেন, ‘তাসকিন ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে ওনার স্ট্রাগলের সময় যেভাবে কামব্যাক করেছেন, এগুলো বিষয় নিয়েই আসলে আমার বেশি কথা হয়েছে। ওনার কাছ থেকে আমার এটাই জানার প্রয়োজন ছিল। আমি ওনার মতোই এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি গত দুই বছর। এই সময়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকা বা ধৈর্য যেটাই বলেন, সেটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওনার কাছ থেকে আমি এই পরামর্শগুলো নিচ্ছি। যেহেতু উনি এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন।’

তাসকিনের মতো মাশরাফিকেও আইডল মানেন অভিষেক। মাশরাফির জেলা নড়াইল থেকে উঠে এসে বাংলাদেশকে পাইয়ে দিয়েছেন বিশ্বজয়ের স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবার মাঠে ফিরতে মাশরাফির সঙ্গেও কথা হয় অভিষেকের।

অভিষেক বলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সাথে আমার মাঝেমধ্যে কথা হয়। ইনজুরি থেকে কামব্যাক করার বিষয়ে উনার সাথে কথা হয়। ওনারা তো আসলে অনেক বড় অনুপ্রেরণা।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন যুতসই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব দীর্ঘদিনের। সেই বিবেচনায় বিসিবির ভাবনায় অনেকদিন ধরেই আছেন অভিষেক। এজন্যই দীর্ঘদিনের চোটেও বোর্ড যেমন হাল ছাড়েনি, তেমনি অভিষেককেও রেখেছে দেখভালে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই প্রতিদানটা অভিষেক হয়তো মাঠেই দিতে চাইবেন!