• ঢাকা
  • মঙ্গলবার:২০২৪:ফেব্রুয়ারী || ১৯:০০:২৮
প্রকাশের সময় :
জুন ২৭, ২০২৩,
৪:০৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
জুন ২৭, ২০২৩,
৪:০৩ অপরাহ্ন

৩৭৮ বার দেখা হয়েছে ।

নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা এবং অস্থির বাজার

নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা এবং অস্থির বাজার

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ দুটি মহামূল্যবান। ঈদুল ফিতর চলে যাওয়ার পর ঈদুল আজহা সমাগত। মানুষও ছুটছে নাড়ির টানে বাড়ির দিকে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে নিজ কর্মস্থল থেকে মানুষ ছুটে যাচ্ছে আপন গৃহে। যেখানে আছে বাবা-মা, ভাই-বোন, আÍীয়স্বজন। আছে পাড়া-প্রতিবেশী।
ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। কিন্তু নিরাপদে বাড়ি ফেরার আকুতি সবার মধ্যেই রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্তঃজেলা বাস কোম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। এ সময় বিআরটিসিও বিশেষ সার্ভিস চালু করে। কিন্তু ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ রং করে নতুনের মতো করে তোলা হচ্ছে। যার ফলে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। যানবাহনজুড়েই এখন রয়েছে বাড়ি ফেরার উপচেপড়া ভিড়! ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেককে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। এ ছাড়া অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেই বেড়ে যায় কালোবাজারিদের তৎপরতা। যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের গুনতে হয় তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। তার ওপর সহ্য করতে হয় যানজটের তীব্র যন্ত্রণা। এত কষ্টের পরও মানুষ বাড়ি ফেরে, এটাই তার আনন্দ। এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দিতে এবং দুর্ভোগ কমানোর জন্য টিকিট কেনাবেচা ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করতে হবে। ঈদযত্রার এই সময়ে আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে প্রশাসনকে বাড়তি নজরদারি না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘরমুখী মানুষ যাতে দুর্ভোগের শিকার না হন সে ব্যাপারে আন্তরিক হওয়া একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু এসব কথা বলা সত্ত্বেও প্রতিবছর দেখা যায়, ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ে না। বছরে দুটো ঈদে মানুষ তার শিকড়ে ফিরে যায়। এই সময়টা দুর্ভোগমুক্ত রাখা কি একটা দেশের জন্য অনেক কষ্টকর? এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চক্র যেমনÑ ছিনতাইকারী, মলম পার্টি, গামছা পার্টির আবির্ভাব হয়। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈদযাত্রার মানুষকে বিপদে ফেলা, বিশেষ করে মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থ, ফোন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়াই তাদের কাজ। সব বিষয়ই আমাদের চিরচেনা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ইচ্ছে করলে এসব সংঘবদ্ধ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এটা কোন যুক্তিতে মানা যায়? অথচ দিনের পর দিন বিশেষত ঈদ এলেই এই চক্র যেন সারা দেশে দাপিয়ে বেড়ায়। এদের নিয়ন্ত্রণ না করলে কত লোকের ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে যাবে তার ইয়ত্তা নেই। শিকড়ে ফিরে সবার সঙ্গে যদি আনন্দ ভাগাভাগি করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বাস বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করেন। এতে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা। এমন দুর্ঘটনা যে আগে ঘটেনি তা নয়। তবুও এত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল কেন? ট্রেনের ছাদে চড়াকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এ ছাড়া অনেক চক্র আছে যারা জাল টিকিট বিক্রি করে, ভালো সিটের কথা বলে অনেক টাকা নেয় কিন্তু শেষে উঠিয়ে দেয় লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে। তাই এসব প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকা উচিৎ। সবকিছু মিলিয়ে নির্বিঘœ হোক ঈদযাত্রা এ প্রত্যাশা সবার।

২.

গত রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পশু কেনাবেচা। এরই মধ্যে হাটগুলোতে আনা হয়েছে গরু-ছাগল। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও দাম চড়া। গরু কেনার আগে দাম যাচাই করতে আসা ক্রেতারা এমনটাই দাবি করছেন। খামারি বা বিক্রেতারা বলছেন, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ও যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ায় এ বছর পশুর দাম তুলনামূলক বেশি। তবে সব জিনিসের মতো পশুর দাম বাড়ায় কেনাবেচায় প্রভাব ফেলবে না এমন মত বিক্রেতাদের হলেও আবার এ কথাও ঠিক যে, সবকিছুর দাম বেশি। গোখাদ্যের দাম চড়া। দাম এ বছর তো একটু বেশি হবেই। গরু আনতে যাতায়াত খরচও বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিমত এ বছর দাম অনেক চড়া। ৩ মণ ওজনের গরু গত বছর ৭০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, এ বছর দাম চাচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিক্রেতারা দাম কমাতেও চায় না। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য এ বছর দাম অনেক বেশি। দেখি পরে দাম কমে কিনা। বাজার যে পরিমাণ চড়া, তাতে সাধারণ মানুষ কি করবে সেটা বুঝে ওঠা কষ্ট। রাজধানীর হাটগুলোয় জায়গা পেতে বিক্রেতাদের এক ধরনের প্রতিযোগিতা কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট এলাকার বাইরের রাস্তার ওপরও গরুর হাট বসেছে। হাটে পছন্দের মতো অনেক গরু রয়েছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। ঈদের আগে দাম কমতে পারে। সেই আশায় ক্রেতারা। তবে সম্প্রতি গরু আনায় সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতির কথা গণমাধ্যমে শোনা গিয়েছিলো সেটা কতদূর বাস্তবায়ন হবে সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।
যদিও পশুর হাটের ক্রেতা ও বিক্রেতার জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং বুথ, জাল টাকা শনাক্তের বুথসহ নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা আছে। এদিকে ধোলাইখাল পশুর হাট, রহমতগঞ্জ ক্লাব মাঠের পশুর হাট, যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজ মাঠ পশুর হাট ও মেরাদিয়া পশুর হাটসহ সব হাটেই উঠেছে পর্যাপ্ত গরু। বিক্রেতারা নির্দিষ্ট স্থানসহ রাস্তার দুই পাশে গরু সাজিয়ে রেখেছেন। ঢাকার বাইরে থেকে গাড়িতে করে গরু আসছেই। কুষ্টিয়া থেকে গরু আনার সময় ফরিদপুর, ভাঙ্গা ও পদ্মা পার হয়ে মুন্সীগঞ্জে এবং পোস্তগোলা ব্রিজ পার হওয়ার আগে ও পরে টাকা দিতে হয়েছে বলে বিক্রেতাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কোথাও ২০০, কোথাও ৫০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। এরপর হাটে ভালো জায়গা পেতেও অনেক সংকট হয়েছে। বাজার এত চড়া যে ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। দাম বলছেন কম। কিন্তু গরুর খাবারের দাম বেশি বলে কমে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হতে পারে। বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশুর সমাগম হয়েছে গাবতলীতে। হাটে উঠেছে দুম্বাও। গরু-ছাগলের দাম বেপারিরা অত্যধিক বেশি হাঁকাচ্ছেন। মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে পশুর হাটের দাম মিলছে না। ক্রেতারা বলছেন পশুখাদ্য, পথেও চাঁদা সব মিলিয়ে দাম বাড়ছেই। পর্যাপ্ত পশু থাকার পরও দাম অনেক বেশি। বাজার নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
লেখক: সংবাদিক ও কলামিস্ট