• ঢাকা
  • শুক্রবার:২০২৪:এপ্রিল || ১৩:১৩:৪৩
প্রকাশের সময় :
জানুয়ারী ১৪, ২০২৩,
৪:৫৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
জানুয়ারী ১৪, ২০২৩,
৪:৫৭ অপরাহ্ন

৪৬৯ বার দেখা হয়েছে ।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা: সেবায় ৪ ব্যাংক ২ হাসপাতাল

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা: সেবায় ৪ ব্যাংক ২ হাসপাতাল

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সেবা দিচ্ছে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। সঙ্গে রয়েছে এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা। অংশগ্রহণ করা সরকারি বেসরকারি চার ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি ডাচ্ বাংলা ও ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে বিকাশ ও রকেট।
বাণিজ্য মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে ডিকেএমসি ও বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড। প্রতিদিন মেলায় সমাগম হচ্ছেন হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী। এতো মানুষের ভিড়ে কেউ অসুস্থ বা আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা দিতেই এ ব্যবস্থা রাখা। মেলায় এসে ফ্রি চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তিতে দর্শনার্থীরাও।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে মাসব্যাপী ২৭তম বাণিজ্য মেলার প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে ২টি মিনি প্যাভিলিয়নে দেয়া হচ্ছে ফ্রি চিকিৎসা সেবা। বিআরবি হাসপাতাল ও ডিকেএমসি হাসপাতালের ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা চিকিৎসা নিতে বসে আছেন। সেখানে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন অভিজ্ঞ দুইজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে পৃথক মেডিকেল টিম।
মেলায় দায়িত্বে থাকা ডিকেএমসি হাসপাতালের ম্যানেজার খাইরুল হোসেন বলেন, মেলায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসছেন। এখানে এসে যে কেউই অসুস্থ হতে পারেন। তাই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে ডিকেএমসি হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক সুবিধা-সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের ডিকেএমসি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। ফ্রি ব্লাড সুগার নির্ণয়, প্রেসার মাপা, স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র প্রদান করছে। জ—র, ঠান্ডা, কাশি, ব্যথাসহ প্রাথমিক ওষুধও দেয়া হচ্ছে।
এ সময় বিআরবি হাসপাতালের বিজনেস ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার মামুনুর রশীদ জানান, মেলায় আমরা ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। ফ্রি ব্লাডের সুগার নির্ণয়, রোগীর প্রেসবার মাপা, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ৩১০ বেডের বিআরবি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে তাৎক্ষণিক হাসপাতাল পর্যন্ত বিনা খরচে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

অস্থায়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা ডিকেএমসির নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, কেউ অসুস্থ হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে সব বয়সী মানুষ সেবা নিতে আসছেন। মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকায় কখনো কখনো বেশ হিমশিম খেতে হয় বলেও জানান তিনি। প্রতিদিন দুই শতাধিক দর্শনার্থী চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও ফ্রি ওষুধ নিতে প্যাভিলিয়নে আসছেন বলেও জানান তিনি।
এখানে ফ্রি চিকিৎসা নিতে আসা রুহুল আমিন বলেন, হঠাৎ ঘাড় ব্যথা করছে। এখানে এসে প্রেসার মেপে নিলাম। টাকা লাগেনি। রক্তের সুগার নির্ণয় করতে আসা আল আমিন বলেন, টাকা ছাড়া চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তাই করা যায় না। যেখানে সেবা নেন টাকা লাগবেই। কিন্তু এখানে ফ্রি চিকিৎসা বেশ ভালো লাগছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শুধু ক্রেতাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা নয়। স্টল প্যাভিলিয়ন মালিকদের জন্য রযেছে লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা। সারা দিনের বেচা-কেনার অর্থ সহজেই এসব ব্যাংকে জমা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকে হিসাব খোলা ও ঋণ আমানতসহ বিভিন্ন সেবার তথ্য প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতা-দশনার্থীদের লেনদেনের সুবিধায় দেয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। কেনাকাটা করতে চাহিদা মতো টাকা তোলা ও বিক্রেতাদের নগদ টাকা জমা নেয়া হচ্ছে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এসব শাখায় পণ্যের ভ্যাট পরিশোধ, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর মত সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এটিএম বুথের মাধ্যমে নগদ টাকাও তুলতে পারছেন মেলায় আগতরা। একই সঙ্গে গ্রাহকের নতুন হিসাব খোলা, বিভিন্ন আমানত ও ঋণ প্রকল্প সম্পর্কেও নানা তথ্য জানানো হচ্ছে।
মেলার সদস্য সচিব ইপিবির কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে মেলায় চারটি ব্যাংক সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ভ্যাট গ্রহণ, অর্থ লেনদেনের সুবিধার্থে সরাসরি সোনালী ব্যাংককে বরাদ্দ দিয়েছে ইপিবি। অর্থাৎ মেলা থেকে রাজস্ব আয় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। আর বাকি তিন ব্যাংক প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়েছে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। মেলায় নগদ অর্থ লেনদেনের জন্য এটিএম বুথ এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে।’
মেলায় ইসলামী ব্যাংকের ৩৩ নম্বর প্যাভিলিয়নটি আকর্ষণীয় করে নির্মাণ করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন থেকে দেশব্যাপী ব্যাংকের ৩৪২টি শাখায় হিসাব খোলা, নগদ জমা ও এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং, এমক্যাশ, আই-ব্যাংকিংসহ আমানত ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেলায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. মাহবুব উল আলম বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক প্রতিবছরই বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়। এবার আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইসলামী ব্যাংকের শিল্পায়ন, গার্মেন্টস, পল্লী উন্নয়ন, আবাসন, পরিবহন, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ কার্যক্রম এতে উপস্থাপন করেছে। বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং সিএসআর কার্যক্রমের নান্দনিক চিত্রায়ন প্যাভিলিয়নের ভেতর-বাইরে স্থান পেয়েছে।’
জনতা ব্যাংকের প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরত কর্মকর্তা পৃথিরাজ কিশোর চন্দ্র জানান, মেলায় অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের পণ্য ক্রেতা-দশনার্থীদের কাছে তুলে ধরা। মেলায় সাধারণ লেনদেনসহ ব্যাংকিং বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম বুথের সেবা দেয়া হচ্ছে।
মেলায় পাঁচটি এটিএম বুথ বসিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীরা নিজেদের পণ্য সম্পর্কে জানানোসহ এজেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।