• ঢাকা
  • শুক্রবার:২০২৪:মে || ০৫:৫৯:০১
প্রকাশের সময় :
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২,
৫:১২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২,
৫:১২ অপরাহ্ন

৬১ বার দেখা হয়েছে ।

জামিন নিতেও বিভক্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি!

জামিন নিতেও বিভক্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি!

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামিন নিতে গিয়েও গ্রুপিং ও বিভাজন দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। এক বলয়ের সঙ্গে অন্য বলয়ের নেতাকর্মীরা জামিন নিতে যাননি আদালতে। অথচ মামলায় সবাইকে একসঙ্গে আসামি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে চার দফায় আগাম জামিন পেয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির ৫২ নেতাকর্মী।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহের আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ জেলা বিএনপির তিন নেতার ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, পিরোজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও সোনারগাঁ থানা যুবদল নেতা রাজু আহমেদ রমজান।

একই দিন আলাদাভাবে জামিন আবেদন করে জামিন পান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শহিদুর রহমান স্বপন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আকবর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের সেন্টু প্রমুখ।

এর আগে রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মন্টু মেম্বারসহ ২৪ নেতাকর্মী আগাম জামিন পান।

এর আগে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদসহ মহানগর বিএনপির ২২ নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পান।

জানা যায়, বিএনপি নেতাদের সবাইকে একটি মামলায় আসামি করা হলেও এক বলয়ের সঙ্গে আরেক বলয় একসঙ্গে জামিনের আবেদন জমা দেননি। এমনকি সেদিন সংঘর্ষের সময় একসঙ্গে থাকলেও মামলায় জামিন নিতে আলাদাভাবে আদালতে গিয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।

বিএনপি নেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মো. মাহাবুবুর রহমান খানসহ কয়েকজন আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট মো. মাহাবুবুর রহমান খান জানান, আমরা আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, এখানেও কিছু কৌশল রয়েছে। আর আমাদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। দলীয় কোনো সমস্যা নেই। আমাদের মধ্যে এখন ঐক্য অনেক বেশী। দলীয় প্রতিযোগিতা থাকবেই তবে কোনো কোন্দল নেই।

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি বের করতে চাইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করলে নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ মিছিলে গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় শাওন নামে এক যুবদল কর্মী ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিএনপি নেতাদের দাবি, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় শাওনের।