• ঢাকা
  • শুক্রবার:২০২৪:এপ্রিল || ১৪:০৬:৩২
প্রকাশের সময় :
এপ্রিল ১২, ২০২২,
৮:২৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
এপ্রিল ১৩, ২০২২,
১:০৪ পূর্বাহ্ন

৫৫ বার দেখা হয়েছে ।

এক দশকে প্রায় দুই কোটি টাকার সহায়ক

এক দশকে প্রায় দুই কোটি টাকার সহায়ক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সময়ের বিবর্তনে ঘটে চলে কতকিছু। মানুষ কলুষিত করে সমাজ। আবার সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে সেই মানুষের হাত ধরেই। তেমনি একজন মানবিক মানুষ মুরাদ মিয়া। যার নেতৃত্বে একটি সংগঠন মানবিক কাজে নিবেদিত প্রায় দশ বছর ধরে। মহামারী করোনার দুঃসময়ে আরও বেশি বেগবান ছিল ‘মানবিকতায় কিশোরগঞ্জ’ নামক সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম।

‘একটি মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যাশায়, আমরা আছি আপনার পাশে’- স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালের আগস্ট মাসে যাত্রা। শুরুতে ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে সংগঠনটির স্থায়ী নাম নির্ধারিত হয় ‘মানবিকতায় কিশোরগঞ্জ’। সংগঠনটি কাজ করছে মনের আনন্দে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে। তাদের নেই কোনো অসম প্রতিযোগিতা, নেই প্রতিদান কিংবা পুরস্কারের আশাও।

এক দশকে ‘মানবিকতায় কিশোরগঞ্জ’র মানবিক কাজের হিসাবটাও কিন্তু বেশ লম্বা। স্থায়ীভাবে চিকিৎসা করিয়েছে একুশ জনের, স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করেছে আট জনকে, বিয়ে দিয়েছে কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার নয়জন মেয়ের, অসহায় প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার দিয়েছে দশটি, করেছে তৃতীয় লিঙ্গের ত্রিশজনের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা। বিতরণ করেছে ৩৫০০জনকে কম্বল, ২৫০০জনকে কাপড় ও ৩৬০০জনকে একবেলা খাবার,পরিবেশ রক্ষা কারার জন্য লাগিয়েছেন গাছ প্রতি বছর ঈদসামগ্রী ও ইফতার বিতরণ তো আছেই।

শুধু তাই নয়, বিজয়ের ৫০ বছর পালন করেছে ৫০টি ভালো কাজের মাধ্যমে।২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের স্মরণে রাত ১২টায় আয়োজন করেছে ৬৪ জেলায় একযোগে রক্তদান কর্মসূচি যেখানে অংশ গ্রহণ করে ২৮৪ রক্তদাতা। করোনার সময়ে দিয়েছে অক্সিজেন সেবা ও অসহায় মানুষের মুখে খাবার। ১টি পরিবারকে নির্মাণ করে দিয়েছে ঘর। স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে ২ হাজার মানুষকে দিয়েছে চিকিৎসা সেবা। চক্ষু সেবা দিয়েছে ১২০০জন মানুষকে। মসজিদ-মাদ্রাসায় করেছে মাইক, ফ্যান, মটার ইত্যাদির ব্যবস্থা। এছাড়াও বিনামূল্যে রক্তদান করেছে প্রায় ৭০০০ ব্যাগ এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিয়েছেন ৮০০০ জন মানুষের। নিয়েছে ২৮০ জন বাচ্চার শিক্ষার দায়িত্ব। প্রশাসনের আহবানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সচেতনতামূলক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করেছে সংগঠনের সদস্যরা।

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে সংগঠনটি যাত্রা করলেও কাজের মাধ্যমে জানান দিয়েছে দেশের সচেতন মহলে। তাদের দেখাদেখি তাদের মতো করে অন্যান্য জেলা শহরেও মানবিকতার কাজ করছে অনেকেই।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. মুরাদ মিয়া ঢাকা কলেজ থেকে ব্যবসায় শাখায় পড়ালেখা শেষ করে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সমাজসেবা ও ছোটখাটো কিছু ব্যবসাতে। তবে তিনি জানান, মূলত সমাজসেবাই তার সর্বাধিক পছন্দের কাজ।

সংগঠনটির অনুদানের উৎস কী জানতে চাইলে মুরাদ মিয়া বলেন, ইমরান, শফিক, আতিক, রাজন, সাগর, ইমরান, রুবেল, পলাশ, জিতু, হাবিব, মাসুদ, প্লাবন উজ্জ্বল, রুহান, শ্রাবণী, বৃতি, মুনা, বিল্লাল, তন্ময়, আশরাফুল, মঞ্জিল এই মোট ২১ জনের নিজেদের ও প্রবাসিদের এবং অনলাইন ও অফলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অনুদানের অর্থ জোগার করা হয়।

‘মানবিকতায় কিশোরগঞ্জ’ সম্পর্কে মুরাদ মিয়া আরও বলেন, হয়তো আমরা আহামরি কিছু করতে পারিনি। আবার একেবারে বসেও থাকিনি। আমরা চেষ্টা করেছি, মানবিকতার বার্তা দিয়েছি। এই দশ বছরে আমাদের সহযোদ্ধা হয়ে অনেকেই এসেছেন, ভালোবাসছেন। এই দশ বছর আমরা ক্লান্ত হইনি, বরং আরও বেশি দায়বদ্ধ হয়েছি। আগামীতেও মানবিক কাজে ব্রত থাকতে চাই সম্মিলিত উপায়ে। আমাদের সকল প্রচেষ্টা সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণের জন্য।’